অনলাইন ব্যাংকিং কি? অনলাইন ব্যাংকিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

-Advertisements-

অনলাইন ব্যাংকিং বলতে কি বুঝ? অনলাইন ব্যাংকিং এর সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলােচনা কর।

উত্তর : অনলাইন ব্যাংকিং বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা। এর নানাবিধ সুবিধার কারণে দিন দিন এর জনপ্রিয়তা ও ব্যবহার বেড়ে চলছে। আজকাল সব ব্যাংকই অনলাইন ব্যাংকিং এর আওতায় চলে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে অর্থ লেনদেনে জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে স্মার্ট কার্ড, অনলাইন ও এটিএম ব্যাংকিং সেবা। বাংলাদেশে অনলাইন ইন্টারনেট সেবা চালু হয় ১৯৯৬ সালের ৪ জুন। বাংলাদেশের জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলাে মিলিয়ে সারা দেশে জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত ৯,৮১০টি এটিএম বুথের মাধ্যমে ব্যাংকগুলাে অনলাইন সেবা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইস্যুকৃত

ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড তার গ্রাহকরা ব্যবহার করছেন কেনাকাটা ও নিত্যদিনের প্রয়ােজনে।

অনলাইন ব্যাংকিং-এর সংজ্ঞা : অনলাইন ব্যাংকিং-এর ‘অনলাইন’ বলতে এমন একটি ব্যবস্থাকে বােঝায় যেখানে অনেকগুলাে আন্তঃসংযােগকৃত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের মাধ্যমে প্রয়ােজনীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে।

-Advertisements-

আমরা জানি, কোনাে ব্যাংকের শাখাসমূহে অনেকগুলাে কম্পিউটার Local Area Network (LAN)-এর মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। আবার একটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং এর শাখাগুলাে Wide Area Network (WAN)-এর মধ্যে বেতার তরঙ্গ, অপটিক্যাল ফাইবার বা অন্য কোনাে মাধ্যমের সাহায্যে গােটা দেশের মধ্যে আন্তঃসংযােগ তৈরি করে থাকে। আমরা ব্যাংকে বিদ্যমান এই গােটা ব্যবস্থাটিকে ব্যাপক অর্থে অনলাইন ব্যাংকিং বলতে পারি। অর্থাৎ ব্যাংকে Local Area Network (LAN) এবং Wide Area Network (WAN)-এর সাহায্যে যে সমস্ত ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হয় তাকে | অনলাইন ব্যাংকিং বলে। এক কথায় বলা যায়, অনলাইন ব্যাংকিং এমন একটি আর্থিক প্রক্রিয়া যেখানে কম্পিউটার সিস্টেমের

মাধ্যমে অনেকগুলাে আন্তঃসংযােগকৃত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রয়ােজনীয় আর্থিক কার্যাবলি সম্পাদন করে। অনলাইন ব্যাংকিং এর এমন কতগুলাে উদাহরণ হচ্ছে- এটিএম, অটোমেটেড ফান্ড ট্রান্সফার, ইলেকট্রনিক চেক, ইলেকট্রনিক মানি ইত্যাদি।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সব কটি ব্যাংকই অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশের অনলাইন ব্যাংকিংসুবিধা প্রদানকারী কয়েকটি উল্লেখযােগ্য ব্যাংক হলাে সােনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, ট্রাস্ট, ডাচ-বাংলা, ইস্টার্ন, ঢাকা, ব্র্যাক, প্রাইম, ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল, সিটিসহ সকল বেসরকারি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকসমূহ।

অনলাইন ব্যাংকিং-এর সুবিধা: 

অনলাইন ব্যাংকিং সামগ্রিক ব্যাংকিং জগতের জন্য এক আশীর্বাদ। এটি ব্যাংকিং জগতে এক এ বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। এ পদ্ধতি সেবা প্রদানকারীর জন্য যেমন সেবাদান পদ্ধতি সহজ করেছে তেমনি সেবা গ্রহণকারীর জন্যও সেবা গ্রহণের গতি বৃদ্ধি করেছে। নিচে অনলাইন ব্যাংকিং এর সুবিধা উল্লেখ করা হলাে : সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিধাসমূহ

ক. ২৪/৭ অর্থাৎ যেকোনাে সময়ে এটিএম-এর সাহায্যে গ্রাহককে তার অর্থ উত্তোলনের সুবিধা প্রদান;

খ. ব্যাংকের গ্রাহক সেবার মান উন্নত করা;

গ. আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা;

-Advertisements-

ঘ. ব্যাংকের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে সাথে মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি;

ঙ. অনলাইন ব্যাংকিং চালুর ফলে গ্রাহকের সময় ক্ষেপণ এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করা;

চ. আন্তঃশাখা ও আন্তঃব্যাংক লেনদেন সমন্বয় সহজতর করা;

ছ. ইলেকট্রনিক ফান্ড ও ইলেকট্রনিক মানি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকের ব্যবসায়িক লেনদেন সহজতর করা।

-Advertisements-

 

-Advertisements-
অনলাইন ব্যাংকিং কি

সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সুবিধাসমূহ

ক. অতি অল্প সময়ে যেকোনাে স্থানে যেকোনাে পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা;

খ. ২৪ ঘণ্টা, ৩৬৫ দিন নিজ একাউন্টে প্রবেশের সুবিধা;

-Advertisements-

গ. হিসাবের ব্যালেন্স অথবা স্টেটমেন্ট যাচাইয়ের সুবিধা;

ঘ. এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা;

ঙ. ইউটিলিটি বিল পরিশােধ (যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফোন ইত্যাদি);

চ. সুদের হার অনুসন্ধান করা;

-Advertisements-

ছ. বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অনুসন্ধান করা;

জ. চেক বই এর জন্য অনুরােধ প্রেরণ;

ঝ. জরুরি প্রয়ােজনে চেক এর পেমেন্ট বাতিল করা;

ঞ. মােবাইল বিল অথবা ব্যালেন্স রিচার্জের সুবিধা;

-Advertisements-

ট. ইস্যুরেন্স প্রিমিয়াম জমা দেয়া;

ঠ. টিউশন ফি জমা দেয়া;

ড. বিভিন্ন ডিপােজিট স্কিম খােলার জন্য ঘরে বসে ফরম পূরণ করা ইত্যাদি।

৬. বান্ন ডিপােজিট কম খােলার জন্য যয়ে

-Advertisements-

ব্যাংকসমূহের এ সকল সুবিধা ভােগের ক্ষেত্রে যে দুটি বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম ব্যবহৃত তা হলাে ক্রেডিট কার্ড এবং রেডি ক্যাশ কার্ড ।

ক্রেডিট কার্ড :

ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং-এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রাহকদের নিজ নামে প্রায় এক কোটির বেশি কার্ড রয়েছে। এটি ব্যাংক কর্তৃক সরবরাহকৃত এক ধরনের প্লাস্টিক কার্ড। সাধারণত ব্যাংক কোনাে মূল্যবান গ্রাহককে কোনাে নির্দিষ্ট কিছু জমার বিপরীতে (যেমন- সঞ্চয়পত্র, এফটিআর) এ কার্ড সরবরাহ করে থাকে। সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশােধের ক্ষেত্রে দোকানি/ব্যবসায়ী কার্ডসম্পর্কে পরিপূর্ণ নিশ্চিত হবার পর কার্ডধারীর নাম, কার্ড প্রতিষ্ঠানের নাম, কার্ড নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য সম্বলিত বিল তৈরিকরে কার্ডধারীর কাছ থেকে স্বাক্ষর করে নেয় এবং পরে দোকানি বিলের কপি তার ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা সংগ্রহ করে নেয়। 

অনেকেই কিছু ক্রেডিট কার্ড (Credit Cards) ব্যাবহার কে দরকারি মনে করলেও এর অপব্যবহার করে বিপদে পড়া মানুষের সংখ্যাই বোধকরি কম না। আবার কেউ কেউ আছেন, যারা বেশি টাকা খরচ হওয়ার ভয়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন না। কিছু মানুষের ভয়, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে বোধহয় বেশি টাকা খরচ হয়ে যাবে, ইত্যাদি।
এমন অনেক গ্রাহক রয়েছেন  গাদা গাদা টাকা ধার নেন। কিন্তু পুরো টাকা শোধ করেন না। ন্যূনতম বিল মিটিয়েই ক্ষান্ত থাকেন তাঁরা। এমন মনোভাব নিয়ে অনেকেই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এর প্রধান সমস্যা সমস্যা হল ক্রেডিট কার্ডের অত্যন্ত উচ্চ সুদের হার। এক সময় ফাঁসের মতো তা গলায় চেপে বসবে। ক্রেডিট কার্ডের পিছনের গণিতটা ভালোভাবে বুঝে নিলে সহজেই এসব ঝামেলা এড়ানো যায়।
ভুলেও একাধিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা চলবে না। বেপরোয়াভাবে ব্যয় এড়িয়ে চলতে হবে। তবেই সুদ মুক্ত সময় মিলবে। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো বিল শোধ করতে হবে। তবেই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মজা উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা।

রেডি ক্যাশ কার্ড :

নগদ টাকার বিপরীতে ব্যাংক হতে সরবরাহকৃত এক ধরনের প্লাস্টিক কার্ডকে রেডি ক্যাশ কার্ড বলে। এইস্মার্ট কার্ডটি তৈরি করা হয়েছে সর্বাধুনিক মাইক্রো প্রসেসর প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি কার্ডে রয়েছে।চার সংখ্যার একটি গােপন ব্যক্তিগত নম্বর, এর ফলে কেবল গ্রাহকই পারবেন কার্ডটি ব্যবহার করতে। এছাড়াও কার্ডে রয়েছে।গ্রাহকের ছবি, নমুনা স্বাক্ষর ও মুদ্রিত নাম। ব্যাংকে জমা রাখা নগদ টাকা এই কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।নিত্যপ্রয়ােজনীয় কেনাকাটা আর সেই সাথে ইউটিলিটি বিল পরিশােধ করার সুযােগ রয়েছে রেডিক্যাশ কার্ডে।

অনলাইন ব্যাংকিং-এর অসুবিধা :

আমরা জানি, অনলাইন ব্যাংকিং পদ্ধতি একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক-এর একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা। আজকাল আধুনিক মানের প্রত্যেকটি ব্যাংকই অনলাইন ব্যাংকিং সেবা দেবারলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে এই ব্যবস্থার অসংখ্য সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। এগুলাে নিম্নে আলােচনা করা হলাে-

-Advertisements-

ক. যেহেতু অনলাইন ব্যাংকিং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত একটি ব্যবস্থা তাই এর সংস্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অনেক বেশি যা আর্থিকভাবে দুর্বল কোনাে কোনাে ব্যাংকের পক্ষে বহন করা কষ্টকর;

খ. এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর প্রয়ােজন। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীর অভাব এবং তাদের বিরাট অংকের পারিশ্রমিক প্রদান অনলাইন ব্যাংকিং বাস্তবায়নে বড় বাধা;

গ. যেহেতু অনলাইন ব্যাংকিং একটি নেটওয়ার্ক সম্বলিত ব্যবস্থা, তাই হ্যাকারদের আক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। এতে করে গােপনীয়তা প্রকাশ পেতে পারে, অর্থ বা তথ্য চুরি হতে পারে আবার কম্পিউটার সিস্টেমেও দেখা দিতে পারে গােলযােগ;

ঘ. প্রাকৃতিক অথবা অন্য কোনাে কারণে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে নিরবিচ্ছিন্ন সুবিধা প্রদান বাধাপ্রাপ্ত হয়;

-Advertisements-

ঙ. গ্রাহকরা যদি অনলাইন ব্যাংকিং না বােঝে তাহলে নানা জটিলতায় পড়তে হয়।

সবশেষে বলা যায়, আধুনিক ব্যাংকিং সেবার চমকপ্রদ সব সুবিধা পেতে চাইলে অবশ্যই কিছু সমস্যার মুখােমুখি হয়তাে হতে হবে। এসকল সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকার উপায়গুলাে জানা থাকলে অর্থাৎ নিরাপদ ইন্টারনেট সংযােগ গ্রহণ, হ্যাকিং

সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জন, ডিভাইস ব্যবহারে সতর্কতা, লাইসেন্সসহ এন্টিভাইরাসের ব্যবহার, ওয়েবসাইট ভেরিফাইড কি না তা নিশ্চিত হওয়া, কারাে সাথে ব্যাংকের তথ্য শেয়ার না করা ইত্যাদি বিষয়ে সতর্ক থেকে অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অবশ্যই আমাদের অর্থনৈতিক জীবনকে সহজ ও গতিশীল করে তুলবে।

 

-Advertisements-
-Advertisements-

You cannot copy content of this page